মূত্রনালীর সংক্রমণ (Urinary Tract Infection বা UTI) হলো মূত্রতন্ত্রের যে কোনো স্থানে সংক্রমণ। কিডনি রক্ত পরিশোধনের মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি অপসারণ করে মূত্র তৈরি করে। সাধারণত মূত্র পরিশুদ্ধ থাকে এবং মূত্রতন্ত্রের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয়। তবে কখনও কখনও ব্যাকটেরিয়া মূত্রতন্ত্রে প্রবেশ করলে সংক্রমণ সৃষ্টি হয়, যাকে UTI বলা হয়।
মূত্রনালীর সংক্রমণ (Urinary Tract Infection বা UTI) হলো মূত্রতন্ত্রের যে কোনো স্থানে সংক্রমণ। কিডনি রক্ত পরিশোধনের মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি অপসারণ করে মূত্র তৈরি করে। সাধারণত মূত্র পরিশুদ্ধ থাকে এবং মূত্রতন্ত্রের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয়। তবে কখনও কখনও ব্যাকটেরিয়া মূত্রতন্ত্রে প্রবেশ করলে সংক্রমণ সৃষ্টি হয়, যাকে UTI বলা হয়।
সংক্রমণের ধরন
এই সংক্রমণ মূত্রতন্ত্রের বিভিন্ন অংশকে প্রভাবিত করতে পারে, যেমন-
১। নিম্নাংশে সংক্রমণ (Lower UTI)
● মূত্রনালী (Urethra- Urethritis)
● মূত্রথলি (Bladder- Cystitis)
২। ঊর্ধাংশের সংক্রমণ (Upper UTI)
● কিডনি (Pyelonephritis)
মূত্রথলির সংক্রমণকে বিশেষভাবে সিস্টাইটিস (Cystitis) বলা হয়, এবং এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরনের UTI। সব UTI মূত্রথলিতে সীমাবদ্ধ হয় না; সংক্রমণ দ্রুত চিকিৎসা না করলে কিডনি বা অন্য অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে। কিডনির সংক্রমণকে পাইলোনেফ্রাইটিস (Pyelonephritis) বলা হয় এবং এটি অনেক বেশি জটিল।
জটিলতা ও তীব্রতার ভিত্তিতে UTI-এর প্রকারভেদ:
১. Uncomplicated UTI: এই ধরনের UTI সাধারণত সুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায়, যাদের মূত্রনালী স্বাভাবিকভাবে কাজ করে। এতে সাধারণত মূত্রথলি (সিস্টাইটিস) বা মূত্রনালী (ইউরেথ্রাইটিস) আক্রান্ত হয়।
২. Complicated UTI: এই UTI তখন হয়, যখন মূত্রনালীর স্বাভাবিক কার্যক্রম বা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাহত হয়। যেমন- মূত্রনালীতে বাধা, ক্যাথেটার ব্যবহার, গর্ভাবস্থা, অথবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকা।
৩. Recurrent UTI: অল্প সময়ের মধ্যে বারবার UTI হলে তাকে Recurrent UTI বলা হয়। যেমন- ৬ মাসে ২ বার বা ১২ মাসে ৩ বার সংক্রমণ হওয়া।
মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। প্রায় অর্ধেক নারী জীবনের কোনো সময়ে এতে আক্রান্ত হন। পুরুষ ও শিশুরাও আক্রান্ত হতে পারে, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে হার কম (১–২%)। পুরুষদের মধ্যে UTI হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে একবার সংক্রমণ হলে পুনরায় হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, কারণ ব্যাকটেরিয়া প্রস্টেট গ্রন্থিতে লুকিয়ে থাকতে পারে।
কারণ
মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) ঘটে যখন ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীর মাধ্যমে মূত্রতন্ত্রে প্রবেশ করে মূত্রথলিতে সংক্রমণ ঘটায় এবং পরে ইউরেটারের মাধ্যমে কিডনিতে পৌঁছাতে পারে। । সাধারণত মূত্রতন্ত্র ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে সক্ষম হলেও, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পেয়ে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।
● মূত্রথলির সংক্রমণ (Cystitis) সাধারণত Escherichia coli (E. coli) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়, যা স্বাভাবিকভাবে পরিপাকতন্ত্রে, বিশেষত অন্ত্রের নিম্ন অংশে স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করে।
● এছাড়াও যেসব ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণ হতে পারে- Klebsiella pneumoniae, Proteus mirabilis, Enterococcus faecalis and Staphylococcus saprophyticus.
● ইউরেথ্রার সংক্রমণ (Urethritis) অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার ফলে অথবা যৌনবাহিত সংক্রমণ যেমন হার্পিস, গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া ও মাইকোপ্লাজমার কারণেও হতে পারে।
আরও যেসব কারণ UTI হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়-
● UTI কখনও কখনও টয়লেট করার পর ভুলভাবে পরিষ্কার করার ফলে বা যৌন সম্পর্কের সময় হতে পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রে সঠিক কারণ স্পষ্টভাবে জানা যায় না।
● মূত্রনালীতে বাধা সৃষ্টি করে এমন অবস্থা (যেমন কিডনিতে পাথর), পুরুষদের প্রক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হওয়া।
● জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য ডায়াফ্রাম বা স্পার্মিসাইডযুক্ত কনডম ব্যবহার,
● ডায়াবেটিস, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (কেমোথেরাপি বা HIV-এর কারণে)
● মূত্রথলিতে ক্যাথেটার ব্যবহার, মূত্রনালী চিকন হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে স্টেন্ট ব্যবহার।
● মহিলাদের মেনোপজ বা মাসিক শেষ হয়ার পর মূত্রনালীর দেয়াল পাতলা হয়ে যাওয়ার ফলেও UTI এর রিস্ক বেড়ে যায়।
UTI কীভাবে হয়?
আমাদের শরীর সাধারণত মূত্রনালীকে জীবাণু থেকে রক্ষা করতে পারে। মূত্রের প্রবাহ, স্বাভাবিক অম্লতা এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা একসাথে কাজ করে জীবাণু ঢুকতে বাধা দেয়। কিন্তু কখনো কখনো এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যায়।
● অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া (বিশেষ করে E. coli) ভুলবশত মূত্রনালী দিয়ে শরীরে ঢুকে পড়ে
● ব্যাকটেরিয়াগুলো এমনভাবে মূত্রনালীর ভেতরের কোষে লেগে থাকে যে মূত্রের সাথেও সহজে বেরিয়ে যায় না। এরপর তারা মূত্রথলিতে পৌঁছে সেখানে বংশবিস্তার করে
● শরীর প্রতিরোধের চেষ্টা করলে জ্বালা, ব্যথা ও সংক্রমণ তৈরি হয়।
মহিলদের যে কারণে UTI বেশি হয়
Ø মূত্রনালীর দৈর্ঘ্য ছোট এবং পায়ুপথের কাছাকাছি অবস্থান করায়।
Ø পুরুষদের মত প্রোস্টেট গ্রন্থি না থাকায়। কারন প্রোস্টেটিক রসে ব্যাকটেরিসাইডাল এজেন্ট থাকে।
মূত্রনালীর সংক্রমণের (UTI) উপসর্গসমূহ
ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সংক্রমণের ফলে মূত্রতন্ত্রের অনেক ধরনের জটিলতা দেখা দেয়।
নিম্নাংশে সংক্রমণ (Lower UTI) খুব সাধারণ এবং সাধারণত গুরুতর হয় না। এর সাধারণ উপসর্গগুলো হলো—
● ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া
● প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা অনুভব
● হঠাৎ করে তীব্র প্রস্রাবের চাপ
● মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি হয়নি এমন অনুভূতি
● তলপেটে ব্যথা
● প্রস্রাব ঘোলা, দুর্গন্ধযুক্ত বা রক্তমিশ্রিত হওয়া
● শরীর খারাপ লাগা, ব্যথা ভাব এবং ক্লান্তি অনুভব
ঊর্ধাংশের সংক্রমণ (Upper UTI)- এ নিম্নাংশে সংক্রমণ এর উপসর্গগুলোর পাশাপাশি আরও কিছু লক্ষণ দেখা যায়—
● ৩৮°সেলসিয়াস (১০০.৪°F) বা তার বেশি জ্বর
● কোমর বা পাশের অংশে ব্যথা
● কাঁপুনি ও ঠান্ডা লাগা
● বমি ভাব বা বমি হওয়া
● মানসিক বিভ্রান্তি
● অস্থিরতা বা অস্বাভাবিক উত্তেজনা
UTI-এর উপসর্গ দেখা দিলে বা চিকিৎসার পর উপসর্গ বেড়ে গেলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। জ্বর, তীব্র কোমর ব্যথা বা বমি হলে জরুরি বিভাগে যেতে হবে।
চিকিৎসা না করলে ঊর্ধাংশের সংক্রমণ গুরুতর হতে পারে, কারণ এটি কিডনির ক্ষতি করতে পারে অথবা সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এইসকল উপসর্গ লজ্জাজনক মনে হলেও, এটি স্বাভাবিক এবং এর জন্য কাউকে দোষারোপ করার নেই।
রোগ নির্ণয়
UTI নির্ণয়ের জন্য Urine Dipstick, Urine Microscopic Examination ও Urine Culture করা হয়।
● Urine Dipstick: nitrites, leukocyte esterase পাওয়া যায়।
● Urine R/M/E: Pus cell বা শ্বেতরক্তকণিকা পাওয়া যায়।
● Urine Culture: এর মাধ্যমে সংক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচন করা হয়।
চিকিৎসায় সাড়া না পাওয়া গেলে বা বারবার সংক্রমণ হলে আল্ট্রাসাউন্ড, CT স্ক্যান ও সিস্টোস্কপি দ্বারা মূত্রতন্ত্র পরীক্ষা করা হয়। ঘন ঘন UTI হলে ডায়াবেটিস বা মূত্রতন্ত্রের গঠনগত সমস্যাও মূল্যায়ন করা হয়
চিকিৎসা ও প্রতিকার
হালকা মাত্রার মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) কখনও কখনও নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন। বিশেষ করে জ্বর, কাঁপুনি, বমি বমি ভাব বা বমি থাকলে অবশ্যই অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা দরকার। UTI চিকিৎসায় সাধারণত ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক হলো-
- Lower UTI (Cystitis/ Urethritis):
First Choices are:
● Sulfonamides (sulfa drugs), যেমন: sulfamethoxazole/trimethoprim.
● Nitrofurantoin.
অন্যান্য:
● Amoxicillin.
● Doxycycline.
● Fosfomycin
● Cephalosporins, যেমন: cephalexin.
● Quinolones, যেমন: ciprofloxacin or levofloxacin.
- Upper UTI (Pyelonephritis):
First Choices are:
· Cefalexin
· Ciprofloxacin
- Prophylactic Therapy (যাদের ঘন ঘন সংক্রমণ হয়) First Choice: Trimethoprim (100mg at night)-চলবে Second choice: Nitrofurantoin (50 mg at night)-চলবে
- Pregnancy /গর্ভকালীন UTI এর চিকিৎসা ::
৩৫ সপ্তাহ পর্যন্ত : Nitrofurantoin
৩৫ সপ্তাহের পর থেকে : Cefalexin
(Pregnancy তে Trimethoptrom, Quinolones এগুলো ব্যবহার করা যাবে না)।
ব্যথানাশক ওষুধ সেবন এবং ক্যাফেইন/অ্যালকোহল গ্রহণ পরিহার চিকিৎসায় উপকারী।
বারবার UTI হলে স্বল্পমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধমূলকভাবে দেওয়া হতে পারে, তবে এতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় এ পদ্ধতি খুব বেশি ব্যবহৃত হয় না। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে রোগী নয়, বরং জীবাণু প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।
ü ঘন ঘন সংক্রমণের ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে পর্যাপ্ত পানি পান করে “watch and wait” পদ্ধতি, অথবা
ü জটিল অবস্থায় হাসপাতালে ইনট্রাভেনাস (IV) চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে, পরে সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক চালিয়ে যেতে হতে পারে।
যদি বছরে ৩ বা তার বেশি UTI হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। ডাক্তার অতিরিক্ত পরীক্ষা করতে পারেন, যেমন মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি হচ্ছে কিনা দেখার জন্য।
প্রতিরোধ
● মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) প্রতিরোধে সঠিক ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে টয়লেটের পর যথাযতভাবে পরিষ্কার হওয়া উচিত।
● নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় নিয়মিত প্যাড বা ট্যাম্পন পরিবর্তন করা এবং মূত্রনালীর আশেপাশে কোনো ধরনের কসমেটিকস ব্যবহার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
● নিয়মিত প্রস্রাব করা সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।
● আঁটসাঁট পোশাক এড়িয়ে ঢিলেঢালা কাপড় ও সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করা উচিত।
● মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ইস্ট্রোজেনযুক্ত ভ্যাজাইনাল ক্রিম উপকারী হতে পারে।
কিছু খাদ্য UTI কে প্রতিরোধ করতে পারে। যেমন –
● পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান মূত্রনালী থেকে ব্যাকটেরিয়া বের করে দেয় এবং মূত্রকে ফ্যাকাশে বা স্বচ্ছ রাখে।
● ক্র্যানবেরি ও ব্লুবেরিতে থাকা প্রোঅ্যান্থোসায়ানিডিন (PACs) ব্যাকটেরিয়া, বিশেষ করে E. coli, কে মূত্রথলির দেয়ালে লেগে থাকতে বাধা দেয়।
● প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার যেমন দই, কেফির ও কিমচি অন্ত্র ও মূত্রতন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখে।
● ভিটামিন C-সমৃদ্ধ খাবার (ক্যাপসিকাম, ব্রকলি, পালং শাক, স্ট্রবেরি) মূত্রকে সামান্য অম্লীয় করে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমায়। উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে, যা মূত্রথলির ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে।
● রসুনে থাকা অ্যালিসিন প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণসম্পন্ন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার (যেমন স্যামন মাছ) প্রদাহ কমাতে সহায়ক।
সঠিক চিকিৎসা, জীবনধারা পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে UTI নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব।
UTI নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন:
১. UTI কি ছোঁয়াচে?
না, UTI ছোঁয়াচে নয়। যদিও যৌন সম্পর্ক UTI-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তবে এটি এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে সংক্রমিত হয় না।
২. UTI কতদিন স্থায়ী হয়?
অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করলে সাধারণত ৩–৫ দিনের মধ্যে উপসর্গের উন্নতি দেখা যায়। উপসর্গের মধ্যে জ্বর (খুব বেশি বা খুব কম), বিভ্রান্তি, তলপেট বা কোমর ব্যথা এবং প্রস্রাবে রক্ত থাকতে পারে। সংক্রমণ গুরুতর হলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি বিশ্রাম, প্রচুর পানি পান এবং ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল গ্রহণ উপকারী।
৩. UTI ও মূত্রথলির সংক্রমণের পার্থক্য কি?
UTI একটি সাধারণ শব্দ, যা মূত্রতন্ত্রের যেকোনো অংশের সংক্রমণ বোঝায়। মূত্রথলির সংক্রমণ একটি নির্দিষ্ট UTI, যাকে সিস্টাইটিস (Cystitis) বলা হয়। সব UTI মূত্রথলিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। দ্রুত চিকিৎসা না করলে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যাকে পাইলোনেফ্রাইটিস (Pyelonephritis) বলা হয় এবং এটি বেশি জটিল।
৪. UTI হলে কী সুস্থতা আশা করা যায়?
UTI-এর চিকিৎসা ফলাফল সাধারণত ভালো। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে দ্রুত উপসর্গ কমে যায়। তবে সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী পুরো অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শেষ করা জরুরি। বারবার UTI হলে বা উপসর্গ না কমলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনে IV চিকিৎসা দেওয়া হতে পারে।
৫. হাত বা আঙুলের মাধ্যমে কি UTI ছড়াতে পারে?
হ্যাঁ, আঙুলের মাধ্যমে UTI হওয়া সম্ভব। হাত বিভিন্ন পৃষ্ঠ স্পর্শ করার সময় ব্যাকটেরিয়া বহন করতে পারে। টয়লেট ব্যবহারের সময় অসাবধানতাবশত এসব ব্যাকটেরিয়া ইউরেথ্রায় প্রবেশ করলে UTI হতে পারে।
৬. UTI ও মূত্রথলির সংক্রমণের (Bladder infection) পার্থক্য?
UTI একটি সাধারণ শব্দ, যা মূত্রতন্ত্রের যেকোনো অংশের সংক্রমণ বোঝায়। মূত্রথলির সংক্রমণ একটি নির্দিষ্ট UTI, যাকে সিস্টাইটিস (Cystitis) বলা হয়। সব UTI মূত্রথলিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। দ্রুত চিকিৎসা না করলে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যাকে পাইলোনেফ্রাইটিস (Pyelonephritis) বলা হয় এবং এটি বেশি জটিল।
৭. বয়স্কদের মধ্যে UTI-এর উপসর্গ কীভাবে ভিন্ন হয়?
বয়স্কদের ক্ষেত্রে UTI-এর উপসর্গ অনেক সময় অন্য রোগের সঙ্গে গুলিয়ে যেতে পারে, যেমন ডিমেনশিয়া। কারণ UTI হলে তাদের মধ্যে হঠাৎ তীব্র বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ বা মানসিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, যা কয়েক দিনের মধ্যেই দ্রুত বেড়ে যায়। তাই এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৮. ডিমেনশিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে UTI-এর প্রভাব কেমন?
ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত ব্যক্তির UTI হলে তারা দ্রুত অতিরিক্ত বিভ্রান্ত, অস্থির বা উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারেন। এই হঠাৎ মানসিক বিভ্রান্তিকে ডেলিরিয়াম (Delirium) বলা হয়। অনেক সময় তারা নিজের অসুস্থতা প্রকাশ করতে পারেন না, তাই আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সংক্রমণ ডিমেনশিয়ার অগ্রগতি দ্রুত ঘটাতে পারে।